যে পথে হেঁটেছে রৌদ্র, সেখানে এখন জমাট ছায়ার শরীর,
সময়ের নগ্ন পায়ে ধুলো হয়ে মিশে গেছে চেনা পদধ্বনি;
কে যেন মৃত্তিকা খুঁড়ে বুনেছিল প্রথম স্বপ্নের বীজ,
আজ তার শেকড়েরা আঁকড়ে আছে একবুক বোবা শূন্যতা।
আমরা তো চেয়েছিলাম পাথর খোদাই করে রেখে যাব নাম,
অথচ জলের বুকে লেখা হলো মানুষের যাবতীয় আয়ু;
খসে পড়া পালকের মতো ভেসে যায় সভ্যতার অহংকার,
কেবল নদীর গর্ভে জমা হয় অগণিত তৃষ্ণার জীবাশ্ম।
পাশাপাশি হেঁটে গিয়েও প্রতিটি মানুষ একা, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ,
নিজস্ব খোলসে মোড়া অন্ধকারে জ্বালে তারা নিঃসঙ্গ জোনাকি;
তবু কোনো এক ভোরে, ভুল করে ছুঁয়ে গেলে একে অপরের হাত,
মহাজাগতিক শীতে মনে হয়, বেঁচে থাকা বড় বেশি উষ্ণ!
আসলে কিছুই থাকে না, মুছে যাওয়াটাই পৃথিবীর আদিম নিয়ম,
শুধু স্মৃতির উঠোনে ঝরে পড়ে কিছু শুকনো, হলুদ পাতা;
জন্ম ও মৃত্যুর মাঝে যেটুকু রোদ্দুর আমরা কুড়িয়ে নিই,
তাই দিয়ে গড়ে তুলি ক্ষণিকের এক অলীক স্থায়িত্ব।
যখন সমস্ত কোলাহল থেমে যাবে, নিভে যাবে শেষ লণ্ঠন,
মহাকালের মঞ্চে পড়ে থাকবে শুধু নৈঃশব্দ্যের চাদর;
সেদিনও হয়তো কোনো অচেনা নদীর বাঁকে, নির্জন ঘাসে,
একবিন্দু শিশির ধরে রাখবে আমাদের এই পৃথিবীর ছায়া।
💬 মন্তব্য করুন
আপনার মতামত জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করুন!