আষাঢ়-মেঘে ঢেকে গিয়েছে নীল আকাশের কোণ,
রথের মেলায় আজও আসে একাকী এক মন।
হাতে তার শুকনো মালা, চোখে অশ্রুর ঢেউ,
ভিড়ের মাঝে খুঁজে ফেরে হারিয়ে যাওয়া কেউ।
একদিন এই রথের পথে ছেলেটি ছিল সাথ,
হাসির সুরে ভরিয়ে দিত জীবনের সব রাত।
রথের রশি টানতে টানতে বলত মধুর সুরে-
"আবার আসব রথের দিনে, তোমার হাতটি ধরে।"
বছর গেল, যুগও গেল, ফিরল না সে আর, স্মৃতিগুলো বুকের মাঝে জাগায় হাহাকার।
রথের চাকা ঘুরে চলে সময়-নদীর মতো,
মায়ের বুকে শূন্যতাটা বাড়ে শুধু শতগুণ শত।
শঙ্খ বাজে, ঢাকের তালে উৎসব জাগে প্রাণ,
চারিদিকে আনন্দধারা, উল্লাসেরই গান।
তবু কেন এক মায়ের চোখে ঝরে ব্যথার জল?
কেন তারই হৃদয়জুড়ে বিষাদ অবিরল?
জগন্নাথের রথের কাছে কাঁপে দুটি হাত,
অশ্রু মেশা মালা গেঁথে জানায় মনের কথা।
বলে, "প্রভু ধন চাই না, চাই না সুখের ভার,
ফিরিয়ে দাও সেই মুখখানি, হারিয়েছে যে আমার।"
যদি না সে ফিরতে পারে এই জীবনের তীরে,
স্বপ্ন হয়ে একবার আসুক আমার ঘুমের নীড়ে৷
একটি বার 'মা' বলে ডেকে জড়িয়ে ধরুক প্রাণ,
সেই ডাকেতেই ভরে উঠুক শূন্য জীবনের গান৷
💬 মন্তব্য করুন
আপনার মতামত জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করুন!